শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

গরমের হালকা মেকআপ

প্রচন্ড গরম পড়েছে। আর এই গরমে প্রতিদিন বাইরে যাওয়ার আগে সকালে সাজতে সবারই খুব বিরক্ত লাগে। কারণ অনেক কষ্ট করে সাজগোজ করার পর রোদে গেলেই ঘামিয়ে সব নষ্ট হয়ে যায়। ঘামিয়ে চোখের কাজল লেগে যায় মুখে আর ঠোটের লিপস্টিক লেগে যায় কপালে। বিশেষ কিছু উপায়ে গরমের সময়েও মেকআপ রাখতে পারবেন একদম ফ্রেশ। তাও আবার সকালের তাড়াহুড়ায় মাত্র ৫ মিনিটেই করতে পারবেন মেকআপ। আসুন জেনে নেয়া যাক গরমের হালকা মেকআপ করার উপায়।

বরফ ঘষুন
গরমে বাইরে বের হলেই মুখ ঘামিয়ে তেলতেলে হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মেকআপের আগেই মুখে বরফ ঘষে নিতে হবে। পানির সাথে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এরপর সেটা ফ্রিজে রেখে বরফ বানিয়ে নিন। প্রতিদিন মেকআপ শুরু করার আগে পুরো মুখে বরফটা ঘষে নিন। তাহলে ত্বক তেলতেলে হবে না এবং ঘামে মেকআপ নষ্ট হবে না।

সানস্ক্রিন
এই গরমে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে একেবারেই ভুলে যাওয়া উচিত না। কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। মুখে বরফ ঘষে নেয়ার পরে মুখটাকে মুচে বা শুকিয়ে নিয়ে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন মুখে, হাতে ও পায়ের খোলা অংশে।

পাউডার
সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেয়ার পর মুখে পাউডার লাগিয়ে নিন। গরমে ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করাই ত্বকের জন্য ভালো। তাই মুখে দাগ থাকলে সেটা কনসিলার দিয়ে ঢেকে উপরে ফেসপাউডার লাগিয়ে নিন। সবচাইতে ভালো হয়ে যদি সানস্ক্রিন সমৃদ্ধ ফেসপাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়াটারপ্রুফ আই লাইনার ও মাসকারা
গরমে কাজল ব্যবহার করা উচিত না। কারণ কাজল গলে চোখের নিচে ছড়িয়ে যায়। ফলে দেখতে ক্লান্ত দেখায়। তাই এই গরমে ওয়াটারপ্রুফ আইলাইনার ব্যবহার করুন। সেই সঙ্গে চোখের পাপড়িকে আরো ঘন দেখানোর জন্য ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা ব্যবহার করুন। এতে গরমে অতিষ্ট হয়ে মুখ ধুলেও মেকআপ নষ্ট হবে না।

ম্যাট লিপস্টিক
গরমে কখনই গ্লসি লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না। গরমে গ্লসি লিপস্টিক ব্যবহার করলে সেটা ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গরমে ব্যবহার করুন ম্যাট লিপস্টিক। লিপস্টিক দেয়ার পর একটু পাউডার প্রেস করে নিন। এর উপর আবার লিপস্টিক দিন। তাহলে দীর্ঘ সময় ঠিক থাকবে লিপস্টিক।

পনিটেল/ সাইড বেণী
গরমে চুল খোলা রাখা উচিত নয়। এতে চুল ঘামিয়ে যায় এবং ধুলাবালিতে চুলের ক্ষতি হয়। মেকআপ করা শেষে চুলটাকে ঢিলে করে পনিটেল অথবা বেনি করে ফেলুন। চুল বাঁধার সময় সবসময় মোটা ও নরম ব্যান্ড ব্যবহার করবেন। চিকন ও শক্ত ব্যান্ড ব্যবহার করলে চুল ছিড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মেঘ

শুক্রবার, ৯ মে, ২০১৪

টিপস 100



যারা মধু খেতে পছন্দ করেন তারা বেশীরভাগ সময় একটি সমস্যায় পরে থাকেন, তা হলো অনেকদিন ধরে মধু রেখে দিলে মধুর নিচের দিকের অংশ বা তলানিতে মধু জমাট বেঁধে চিনির মতো শক্ত হয়ে যায়। অনেকে বাধ্য হয়ে এই ধরণের জমাট বাঁধা মধু দিয়েই কাজ চালান। কিন্তু এই সমস্যারও রয়েছে বেশ সহজ সমাধান। জানতে চান কিভাবে?

মধু জমাট বেঁধে চিনির আকার ধারন করলে, মধুর বয়্যামটি যদি কাঁচের হয় তবে একটি বড় পাত্রে কাঁচের জন্য সহনশীল গরম পানি নিন। এরপর মধুর বয়্যামটি এই গরম পানির মাঝে রেখে দিন। দেখবেন কিছুখনের মধ্যেই মধুর জমাট বাঁধা অংশ গলতে শুরু করেছে। এভাবে জমাট বাঁধা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত গরম পানিতে রাখতে পারেন। এছাড়া আরও একটি কাজ করতে পারেন। জমাট বাঁধা মধু ওভেন প্রুফ কোনো পাত্রে ঢেলে ওভেনে দিয়ে গলিয়ে নিতে পারেন খুব সহজেই। ব্যস সমস্যার সমাধান।

মেঘ

কীভাবে বাছাই করবেন ত্বকের উপযোগী সঠিক সানস্ক্রিন?

আমাদের ত্বক সুন্দর রাখার জন্য আমরা কতো কিছুই না ব্যবহার করে থাকি। নানান ধরণের ক্রিম, ফেসিয়াল ইত্যাদি। কিন্তু বছরের সারাটা সময়েই যে জিনিসটি ব্যবহার করা আমাদের সকলের উচিৎ তা হচ্ছে সানস্ক্রিন। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কোনো সময়েই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিৎ নয়। বিশেষ করে গ্রীষ্ম এবং শীতকালে। কড়া রোদ এবং আবহাওয়ার বিরূপ ভাব ত্বকের ওপর ছাপ ফেলে যায় খুব খারাপ ভাবে। শুরু হয় ত্বকের নানা সমস্যা। এই সকল সমস্যার হাত থেকে রেহাই পেতে অবশ্যই ব্যবহার করা উচিৎ সানস্ক্রিন। আরও একটি বিষয়ে সকলের খেয়াল রাখতে হবে তা হলো সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার। কোন ধরণের ত্বকে কেমন সানস্ক্রিন লাগাতে হবে তা আমাদের জানতে হবে। বেছে নিতে হবে সঠিক সানস্ক্রিন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কীভাবে বাচাই করবেন ত্বকের উপযোগী সঠিক সানস্ক্রিন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সাধারণ যে কোন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এতে ব্রণের উপদ্রব বাড়ে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অবশ্যই পানির মাত্রা বেশি অর্থাৎ ওয়াটার বেইজড সানস্ক্রিন বাছাই করা উচিৎ। এতে করে রোদ এবং ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। সানস্ক্রিনের এসপিএফ অবশ্যই ৩০ মাত্রার অধিক ব্যবহার করবেন।

শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বকের জন্য
শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বকের জন্যও আলাদা ধরণের সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ সানস্ক্রিন এমনিতেই ত্বক শুষ্ক করে ফেলে। রুক্ষ ত্বকে সাধারণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে পরে। তাই রুক্ষ এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েসচারাইজার সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন বাছাই করতে হবে। একই সাথে এসপিএফ ৩০ মাত্রার অধিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সাধারণ ত্বকের জন্য
সাধারণ ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি বাছা বাছি করার প্রয়োজন নেই। কারণ সাধারণ ত্বকের ৩০ থেকে ৫০ এসপিএফ মাত্রার সানস্ক্রিন ভালো ভাবেই কাজ করে। সাধারণ ত্বকের জন্য শুধুমাত্র ভালো ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিৎ। এতে করে ত্বক ঘেমে গেলেও সানস্ক্রিন ত্বকে থাকবে।

মনে রাখবেনঃ
- সানস্ক্রিন কেনার আগে অবশ্যই ভালো করে মেয়াদ উত্তীর্ণের সময় দেখে নেবেন।
- অনেকের ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। তাই সানস্ক্রিন কেনার আগে এর উপকরণগুলো ভালো করে পরে নেবেন।
- যে সকল সান্সক্রিনে অক্সিবেঞ্জোন, রেটিনাইল পালমিটেট এবং প্যারাবেন্স জাতীয় উপাদান রয়েছে সে সকল সানস্ক্রিন এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এই ধরণের উপাদান ত্বকের ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

মেঘ

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪

টিপস 99



গরমে রোদে ত্বক পুরে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন সকলেই। চামড়া কালো হয়ে উজ্জ্বলতা হারায়। চেহারার তরতাজা ভাবও চলে যায়। এ দিকে পার্লারে গিয়ে পরিচর্যা করার সময়ও পাওয়া যায় না সবসময়। রইল ত্বকের পোড়া ভাব তোলার তিনটি ঘরোয়া উপায়।

দই-হলুদের প্যাক- একটা বাটি ঠান্ডা দইয়ের মধ্যে এক চিমটে গুঁড়ো হলুদ দিন। ভাল করে মিশিয়ে নিন। ঘন পেস্ট মুখ, গলা, হাত ও অন্যান্য কালো হয়ে যাওয়া জায়গায় লাগান। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিয়ে তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন।

দুধ-শশার প্যাক- একটা শশা নিয়ে দুটো টুকরো করে নিন। অর্ধেক শশা গ্রেট একটা বাটিতে রেখে দিন। শশার মধ্যে ২ টেবিল চামচ দুধ বা গুঁড়ো দুধ ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। ভাল করে মিশিয়ে সারা মুখে, গলায়, হাতে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে মুছে নিন।

টমেটো- একটা টমেটো দুটো টুকরোয় কেটে নিন। টমেটোর টুকরো ভাল করে মুখে, গলায়, হাতে ঘষতে থাকুন যতক্ষণ না বিচি আর টমেটোর রস ভাল করে ত্বকের ভিতরে ঢোকে। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে আলতো করে মুছে নিন।

মেঘ

বুধবার, ৭ মে, ২০১৪

এই মৌসুমে ঝলমলে ফর্সা ত্বক পাবার দারুণ উপায়




বসন্তের চনমনে আবহাওয়া শীতের রুক্ষতাকে দূর করে দিয়েছে। কিন্তু বসন্তের আবহাওয়া শীতের থেকে পুরোপুরি ভিন্ন হওয়ায় ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শুরু হয়ে যায় ত্বকের সমস্যা। কড়া রোদ, গরম বাতাস এবং রুক্ষ আবহাওয়ার ধুলোবালির কারণে ত্বকের উপরিভাগ হয়ে যায় কালো, রুক্ষ এবং প্রাণহীন। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী যারা তাদের ত্বকে ধুলোবালি খুব সহজে আটকে যায় এতে ত্বকের উপরিভাগ কালো দেখায় এবং ব্রণের প্রকোপ বাড়ে। আবার শুষ্ক এবং স্বাভাবিক ত্বক রোদে পুড়ে এবং আদ্রতা হারিয়ে ফেটে যায় এবং কালো ছোপছোপ দাগ পড়ে। তাই এই সময় সবারই দরকার ত্বকের ভালো যত্ন নেয়া ত্বকের উপরিভাগ থেকে এই ময়লার কালো আস্তরণ সরিয়ে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধির জন্য। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক সময় উপযোগী ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে ৩ টি ফেইস মাস্ক।

রুক্ষ এবং শুষ্ক ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে কাঠবাদামের ফেইসমাস্ক
শুষ্ক এবং রুক্ষ আবহাওয়ায় শুষ্ক ত্বক আরও বেশি রুক্ষ হয়ে পপড়ে। ত্বক ফেটে যায় এবং ত্বকে পপড়ে কালো ছোপ। তাই রুক্ষ ও শুষ্ক ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করুন কাঠবাদামের ফেইসমাস্ক।

এই ফেইস মাস্কের জন্য লাগবে ৫/৬ টি কাঠবাদাম এবং সামান্য দুধ। সকালে ৫/৬ টি কাঠবাদাম অর্ধেক কাপ দুধে ভিজিয়ে রাখুন। সারাদিন শেষে রাতে এই কাঠবাদাম এবং দুধ ভালো করে ব্লেন্ড করে পাতলা পেস্টের মত তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি রাতে ঘুমানোর আগে মুখে লাগান। ২ ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিনের ব্যবহারে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি হবে। যদি পারেন তবে এই পেস্টটি সারারাত মুখে রাখার চেষ্টা করুন। এতে দ্রুত ফল ভালো পাবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে শসা এবং লেবুর রসের ফেইস মাস্ক
আবহাওয়া অনেক রুক্ষ হওয়ায় বাতাসে ধুলোবালি বেশি হয় এই সময়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের ত্বকে ধুলোবালি আটকে গিয়ে ত্বকের উপরিভাগ কালো চিটচিটে করে ফেলে এবং সৃষ্টি করে ব্রণ। তাই উজ্জলতা বৃদ্ধিতে এবং ব্রন থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করুন শসা এবং লেবুর রসের ফেইস মাস্ক।

এই ফেইস মাস্কটি তৈরি করতে লাগবে ১ টেবিল চামচ শসার রস, ১ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ হলুদ গুড়ো এবং ১ চা চামচ মধু। সব কটি উপাদান একসাথে ভালো করে মিশিয়ে মসৃণ পেস্টের মত তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি ত্বকে ভালো করে লাগান। ব্রাশ দিয়ে লাগাতে পারলে ভালো হয়। এই মাস্কটি মুখে লাগিয়ে রাখবেন মাত্র ১৫ মিনিট। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মাস্কটি তুলে ফেলুন। প্রতিদিন ব্যবহার করুন এই মাস্কটি।

স্বাভাবিক ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে কলার ফেইস মাস্ক
স্বাভাবিক ত্বক যাদের তারা এই সময় ত্বকের নানা সমস্যায় পড়ে থাকেন। কারন যত্ন না নিলে দ্রুত ত্বক ফেটে যায় এবং ত্বক রোদের সংস্পর্শে আসলেই পুড়ে কালো হয়ে যায়। তাই উজ্জলতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করুন কলার ফেইস মাস্কটি।

এই মাস্কটি তৈরি করতে আপনার লাগবে মাঝারি আকৃতির অর্ধেকটা কলা, ১ টি ডিমের সাদা অংশ এবং ১ টেবিল চামচ টক দই। একটি বাটিতে চামচের সাহায্যে কলা পিষে নিয়ে এতে ডিমের সাদা অংশ এবং টক দই ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করুন। পার্লারের ফেসিয়ালের মত কাজে দেবে।

মেঘ

ঘরেই তৈরি করুন ত্বকের রঙ "ফর্সা" করার ক্রিম

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ত্বকের রঙের উজ্জলতার জন্য আফসোস করেননি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ভার। শুধু আফসোসই নয়, অনেকে তো রঙ চঙে রঙ ফরসাকারি ক্রিমের বিজ্ঞাপন দেখে সেই ক্রিম কিনে মুখে লাগান দিনের পর দিন। কিন্তু এতে লাভ হয় কতোটুকু, তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? হয়তো কিছুটা পরিবর্তন নজরে পড়ে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই এইসব রঙচঙে বিজ্ঞাপনের ক্রিম শুধুমাত্র টাকা জলে ফেলার সমান।

অনেক ধরণের ফেস প্যাক রয়েছে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করার জন্য। কিন্তু অনেকেই ফেস প্যাকের চাইতে ক্রিমের প্রতিই ভরসা রাখেন। তাই আজকে আপনাদের জন্য রইল একটি রঙ উজ্জ্বলকারী ক্রিম যা সম্পূর্ণ ক্যামিকেল মুক্ত এবং বেশ কার্যকরী। বেশ সহজেই ঘরে তৈরি করতে পারবেন এই ক্রিমটি।

উপাদানঃ

দেড় কাপ ঘরে তৈরি চিনি ছাড়া দই
৩/৪ টি কাঠ বাদাম
২ টেবিল চামচ লেবুর রস
২ টেবিল চামচ মধু
১ চিমটি হলুদ গুড়ো

ঘরে চিনি ছাড়া দই তৈরির পদ্ধতিঃ
•প্রথমে ১ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে ফেলুন। এরপর এই দুধটুকু ঠাণ্ডা হতে দিন।
•একটি পাত্রে দুধ ঢেলে নিয়ে ঠাণ্ডা দুধে ৩/৪ ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে পাত্রের মুখ পরিষ্কার পাতলা কাপড় কিংবা স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিক দিয়ে ভালো করে বেঁধে ফেলুন।
•এরপর এই পাত্রটি গরম কিন্তু অন্ধকার স্থানে রাতভর রেখে দিন। ব্যস তৈরি হয়ে গেল দই।

ক্রিম তৈরির পদ্ধতিঃ
•প্রথমে কাঠ বাদামগুলো পিষে নিন । চাইলে পাটায় বেটে নিতে পারেন। কিন্তু পাটা অবশ্যই পরিষ্কার করে নেবেন। একদম মিহি গুঁড়ো করতে হবে।
•এরপর কাঠবাদাম গুড়ো, মধু, দই, লেবুর রস এবং হলুদ গুড়ো একসাথে ভালো করে মিশিয়ে পেস্টের মত তৈরি করুন।
•ব্যস তৈরি হয়ে গেল আপনার রঙ উজ্জ্বলকারী ক্রিম। প্রতিদিন ব্যবহারে দ্রুত ফল পাবেন।
•এই ক্রিম ফ্রিজে একটি ঢাকনাযুক্ত কৌটায় সংরক্ষণ করতে পারবেন ৭ দিন।
•এই ক্রিম শুধু রাতে লাগাবেন। দিনে এই ক্রিম লাগাবেন না। কারণ হলুদ এবং লেবুর রস সূর্যের আলোর প্রভাবে ত্বকে পোড়া দাগের সৃষ্টি করবে।

মেঘ


সোমবার, ৫ মে, ২০১৪

ঘরে বসেই চুল হাইলাইট করার ৩টি পদ্ধতি!


ফ্যাশন সচেতন ছেলে মেয়ে উভয়েই জানেন চুলের হাইলাইটের ব্যাপারে। চুলের মাঝে মাঝে গোছা করে পছন্দের অন্য রঙে রাঙিয়ে নেয়াটাকেই হাইলাইট বলা হয়। কিছুদিন আগেও হাইলাইটের ফ্যাশন চলে গিয়েছিল কিন্তু ইদানীং নতুন করে চুলে কালার হাইলাইট করার চল চলে এসেছে। তাই হাইলাইটের প্রচলনটা আরও বাড়ছে। পার্লারে যেভাবে চুলের হাইলাইট করা হয় তাতে কেমিক্যালের মাত্রা অনেক বেশি থাকে অনেক। ফলে চুলের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। আর তাই আজকে আপনাদের জন্য রইল ঘরে বসে প্রাকৃতিক উপায়ে চুল হাইলাইট করার পদ্ধতি। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে করা হয় বলে চুলের ক্ষতিও হয় না।

লেবুর মাধ্যমে
সব চাইতে ভালো প্রাকৃতিক হাইলাইটার হিসেবে কাজ করে লেবু। এতে চুলে আসে সুন্দর একটি রঙ। এই পদ্ধতিতে হাইলাইট করতে চাইলে একটি বাটিতে সম পরিমান লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে নিয়ে চুলের গোছা আলাদা করে নিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। পার্লারের মতই চুলগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ঢেকে নিয়ে রোদের মধ্যে বসে থাকুন। চুল শুকিয়ে উঠলে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ২/৩ বার করলেই দেখবেন চুল কি সুন্দর হাইলাইট হয়ে গিয়েছে।

রঙ চায়ের মাধ্যমে
রঙ চায়ে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ট্যানিক অ্যাসিড যা চুলে ব্যবহার করলে চুল হাইলাইট হয়ে যায়। প্রথমে ১ কাপ পানিতে ৬/৭ চা চামচ চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন ভাল করে। এরপর এই চা চুলের গোছায় লাগিয়ে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে পেঁচিয়ে রেখে দিন। চা চুলে ভালো করে শুকোতে দিন , শুকিয়ে গেলে চুল গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। মনে রাখবেন মাথার ত্বকে গরম পানি লাগাবেন না। শুধুমাত্র চুলে গরম পানি লাগাবেন। এভাবে ৫/৬ বার করলে চুলের রঙ পরিবর্তন হয়ে সুন্দর হাইলাইট করা হয়ে যাবে।

অলিভ অয়েলের মাধ্যমে
অলিভ অয়েল চুলের ময়েসচারাইজার হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু চুলের ঘরোয়া হাইলাইটের জন্য অলিভ অয়েলের ব্যবহার সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। চুলের যে যে অংশ হাইলাইট করতে চান সে অংশে ভাল করে অলিভ অয়েল মাখিয়ে রোদে বসে থাকুন। অলিভ অয়েল সুরজের আলোর সাথে রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে চুলের রঙ পরিবর্তন করে ফেলে। এতে করে পছন্দ অনুযায়ী চুল হাইলাইট করা হয়ে যায়।

মেঘ