যাদের রাত্রি জাগার অভ্যাস রয়েছে এবং অনিদ্রা রয়েছে তাদের চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল হয়। এছাড়াও সব চাইতে সমস্যা হয় চোখের নিচের চামড়া কুঁচকে গেলে। যারা কম ঘুমান তাদের চোখের নিচের ত্বক কুঁচকে যায়। এতে দেখতে বিশ্রী লাগে এবং অল্প বয়সেই বয়স্ক মনে হয়। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের নিচে এবং চারপাশে আন্ডার-আই সেরাম লাগানো উচিৎ। এতে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন। আন্ডার আই সেরাম বাজারে পাওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে খুব সহজেই ঘরে তৈরি করে নিতে পারবেন এই প্রসাধনটি। এতে করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থেকেও রেহাই পাবেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
- নারকেল তেল
- ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল
পদ্ধতিঃ
- প্রথমে ২/৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল একটি পরিষ্কার পাত্রে ঢেলে নিন।
- এরপর ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল একটি সুঁই দিয়ে ছিদ্র করে ভেতরের তেল নারকেল তেলে দিয়ে দিন।
- এই দুটি তেল একসাথে একটি পরিষ্কার চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। খুব ভালো করে মেশাবেন যাতে আলাদা তেল মনে না হয়।
- এরপর এটি একটি পরিষ্কার কৌটোয় ভালো করে মুখ বন্ধ করে ফ্রিজে রেখে তেল জমাট বাঁধিয়ে ফেলুন।
- প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করে, ফ্রিজ থেকে এই সেরামটি বের করে পরিষ্কার আঙুলের মাধ্যমে চোখের চারপাশে লাগিয়ে ঘুমাবেন। ব্যস, চোখের নিচের চামড়া কুঁচকে যাওয়ার ঝামেলা থেকে সহজেই রেহাই পাবেন।
মেঘ
বহুকাল ধরেই নিজের চোখ জোড়াকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নারীরা নানান প্রসাধনী ব্যবহার করেছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মিসরের অভিজাত নারীরা চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে ও চোখ ভালো রাখতে সুরমা ব্যবহার করতেন। এরপর ধীরে ধীরে চোখের মেকআপে নতুন মাত্রা যোগ করে কাজল, আইলাইনার, আইশ্যাডো, মাসকারা ইত্যাদি। এরপর সেগুলোতেও নতুনত্ব আনার জন্য নানান রঙের কাজল ও মাসকারার ব্যবহার শুরু হয়।
চোখ দুটোকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং চোখের পাপড়িকে ঘন ও লম্বা দেখাতে ব্যবহার করা হয় মাসকারা। দোকানে কালো ও নীল রঙের মাসকারা পাওয়া গেলেও সচরাচর আমরা কালো মাসকারাটাই বেছে নেই চোখের জন্য। অন্য কোনো রঙের মাসকারা ব্যবহার করলে কেমন দেখাবে সেই ভয়ে কখনই ব্যবহার করা হয় না নীল মাসকারা।
চোখের সাজে ড্রামাটিক লুক নিয়ে আসতে ব্যবহার করতে পারেন নীল মাসকারা। মেকআপের একঘেয়েমি নিমিষেই কাটিয়ে দিতে নীল মাসকারার বিকল্প নেই। আসুন জেনে নেয়া যাক নীল মাসকারায় নিজেকে সাজিয়ে তোলার কিছু টিপস।
মাসকারা দেয়ার আগে চোখে লেন্স পরতে চাইলে পরে নিন। নীল মাসকারার সাথে নীল, একুয়া ও হ্যাজেল রঙ এর লেন্স বেশ মানিয়ে যায়।
চোখের পাপড়িতে নীল মাসাকারা ব্যবহারের জন্য চোখের উপর ভালো করে বেজ মেকআপ দিয়ে নিন। কনসিলার দিয়ে চোখের নিচের কালি ঢেকে ফেলুন। তাহলে চোখটাকে দেখাবে অনেক বেশি প্রানবন্ত ও উজ্জ্বল।
চোখের পাপড়িতে নীল মাসকারা ব্যবহারের আগে আইশ্যাডো দেয়ার কাজ সেরে নিন। নাহলে আই শ্যাডো মাসকারায় লেগে যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ন্যুড আইশ্যাডো দেয়াই ভালো। গাঢ় রঙ এর আইশ্যাডোর সাথে নীল মাসকারা একেবারেই মানায় না।
চোখের পাপড়িতে প্রথমে এক কোট কালো মাসকারা দিয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর চোখের পাপড়িতে উপরে ও নিচে দুই তিন কোট নীল মাসকারা লাগিয়ে নিন।
মাসকারা ভালো করে শুকিয়ে গেলে চোখের কোলে নীল অথবা সাদা কাজল লাগিয়ে নিন।
মেঘ
মানসিক চাপ, বড় অসুখের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মাথার ত্বকে চর্মরোগ, বংশগতির কারণেও চুল পড়ে। তবে চুল পড়া কমাতে প্রধানত চুলে পুষ্টি জোগাতে হবে। সে জন্য তেল-মসলাযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং মানসিক চাপ কমাতে হবে। এ ছাড়া সময়মতো খাওয়া-ঘুমানো ও পানি পরিমাণমতো পান করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, শ্যাম্পু করার সময় যেন নখের আঁচড় মাথার ত্বকে না লাগে।
আরেকটি বিষয় হলো, চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা গজিয়ে যায়। সে কারণে এটি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। খুশকি দূর না হলেও চুল পড়ে। খুশকি থাকলে সপ্তাহে দুই দিন খুশকি প্রতিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অন্যান্য দিন প্রোটিন, অ্যামাইনো প্রোটিন সমৃদ্ধ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জেল ও চুলের স্প্রে কম ব্যবহার করাই ভালো। এতে চুলের ক্ষতি কম হয়। আসল কথা হলো, চুলকে পরিষ্কার রাখতে হবে। তবেই দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে।
মেঘ
বাড়িতে পানি রাখার জন্য কী ব্যবহার করেন? নিশ্চয়ই জগ বা বোতল! হালকা এবং সহজে ভাঙ্গে না বলে পানি রাখার কাজে প্লাস্টিকের বোতল এবং জেরিক্যানের ব্যবহার এখন প্রায় সবাই করে থাকেন। তবে কাচের বোতলের মতো গরম পানি ঢেলে দেয়া যায় না বলে এর ভেতরে দাগ-ময়লা-শ্যাওলা পড়ে গেলে পরিষ্কার করাটা খুব মুশকিল হয়ে যায়। তাই বলে কি ওরকমই থাকবে ওগুলো? নাকি বাতিল করবেন ভাবছেন? তারচেয়ে বরং খুব সহজেই পরিচ্ছন্ন করে নিতে পারেন ওগুলোকে। এর জন্য প্রয়োজন হবে আরেকটা ফেলনা জিনিসের, আর সেটা হলো ভাতের মাড়! কী করে পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন সেই সহজ পদ্ধতিটি।
প্লাস্টিকের বোতল বা জেরিক্যানের ভেতর ভাতের ঠান্ডা মাড় ভর্তি করে রেখে দিন দু-তিন দিন। দু-তিন দিন পর মাড়সহ ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন বোতল বা জেরিক্যানগুলোকে তারপর মাড় ফেলে দিন। এরপর সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন। বোতল বা জেরিক্যানের এই ঝকঝকে রূপ দেখে ওগুলো ফেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আপনার মুহূর্তেই বদলে যাবে! প্লাস্টিকের জগ, মগ ইত্যাদিও ধুতে পারেন এভাবে।
মেঘ
গায়ের দুর্গন্ধ খুবই বিব্রতকর একটা ব্যাপার, তাই না? আরো বিব্রতকর হলো পায়ের দুর্গন্ধ! মনে করুন, খুব ভালো পোশাক-আশাক পরে কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন, সেখানে গিয়ে পা থেকে জুতোটা খুললেন আর ভকভক করে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলো। কী ভয়াবহ পরিস্থিতি ভেবে দেখুন তো! এমন পরিস্থিতিতে কেউ পড়তেই চাইবে না, তাই না? অনেকেরই পা বেশি ঘামে। ফলে জুতোর ভেতর আবদ্ধ থেকে ঘামে ভিজে পায়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় আর তৈরি হয় বিব্রতকর সব পরিস্থিতি। বিশেষ করে শীতের দিনে। শীতের দিনে প্রায় সবার পায়েই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, কারোটা কম আর কারোটা বেশি। অথচ এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার উপায়টা কিন্তু খুবই সহজ। কী সেটা? জেনে নিন।
প্রতিদিন জুতা পরার আগে পায়ে মেখে নিন শরীরে ব্যবহার করার ট্যালকম পাউডার। এরপর মুজা পরে জুতা পরুন। এতে সারাদিন জুতা পরে থাকলেও পায়ে দুর্গন্ধ কম হবে। বাইরে থেকে ফিরে ভালো করে পা ধুয়ে ফেলুন এবং পায়ে খানিকটা আফটার শেভ লোশন মাখুন। পায়ের দুর্গন্ধ তো দূর হবেই, দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াও মারা পড়বে।
মেঘ