মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

পিঠের ব্রণের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ঘরোয়া ৪ টি মাস্ক

মুখের ত্বকের ব্রণের সমস্যার মতোই মারাত্মক আরেকটি সমস্যা হচ্ছে পিঠে ব্রণের সমস্যা। অনেকেই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। অনেকের তো এমন হয় যে মুখের ত্বকে ব্রণ না উঠলেও পিঠের ত্বকে অনেক ব্রণ উঠে থাকেন। এই নিয়ে অনেকে নিজের অনেক পছন্দের পোশাক পরা থেকেও বিরত থাকেন। অনেকে বেশ অস্বস্তি বোধ করেন।
এই পিঠের ব্রণের সমস্যাও রয়েছে ঘরোয়া সমাধান। আজকে চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে রেহাই পাবেন এই সমস্যা থেকে।

টমেটোর মাস্ক

টমেটোর ভিটামিন এ এবং সি শুধুমাত্র আমাদের দেহের অভ্যন্তরেই কাজ করে তা নয়। এটি পিঠের ব্রণও দূর করে খুব সহজেই।
প্রথমে টমেটো নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। মিহি ব্লেন্ড করবেন না। এই ব্লেন্ড করা টমেটো পিঠের ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন ভালো করে। প্রতিদিন ব্যবহার করুন এই টমেটো মাস্ক।

হলুদ ও পুদিনার মাস্ক

হলুদ ও পুদিনা দুটোরই রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা ব্রণ নির্মূলের সাথে ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে।
পুদিনা পাতা ছেঁচে নিয়ে রস বের করে নিন। হলুদ বেটে নিন। অথবা চাইলে হলুদ গুঁড়োও ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনা ও হলুদ একসাথে মশিয়ে নিয়ে পিঠের ত্বকে ঘষে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে দিয়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারেই ভালো ফল পাবেন।

গোলাপজল ও লেবুর মাস্ক

এই মাস্কটি ব্রণের সমস্যা সমাধানের সাথে পিঠের ত্বকের কালো দাগ দূর করে পিঠের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে।
ভালো কোন গোলাপজলের সাথে তাজা লেবুর রস চিপে ভালো করে মিশিয়ে নিন। সমান সমান গোলাপজল এবং লেবুর রস নেবেন। এরপর এটি পিঠের ত্বকে লাগাবেন। শুকিয়ে এলে এই আমস্কতি নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ুন। সারাএয়াত রেখে সকালে উঠে পিথ ধুয়ে নেবেন। একদিন পরপর ব্যবহারে দ্রুত ফল পাবেন।

দারুচিনি ও মধুর মাস্ক

মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান পিঠের ত্বকের ওপর থেকে ইষ্টের আক্রমণ দূর করতে সহায়তা করে। পিঠের ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হয়।
১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়োর সাথে ২ টেবিল চামচ মধু খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটিতে তাজা লেবুর রস দিন ১ টেবিল চামচ। ত্বকে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। সমস্যার সমাধান হবে।

মেঘ

সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করছেন তো প্রিয় ফেসক্রিমটি?

আমরা সবাই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ক্রিম আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার করে থাকি। একেজনের ত্বক একেক রকম। এ কারণে একেক ত্বকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে আপনার স্পর্শকাতর ত্বকে সেই ক্রিমটি সঠিক উপায়ে ব্যবহার করছেন কি না। আমরা প্রায় সময়ই ক্রিমটি ভুল পদ্ধতিতে ব্যবহার করে থাকি। জেনে নিন ত্বকে ক্রিম ব্যবহারের সঠিক নিয়মগুলো।

১. মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন :

মুখে ক্রিম ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপনার মুখটি ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কেননা মুখে বিভিন্ন ধরনের ঘাম, ময়লা লেগে থাকতে পারে। এ কারণে ত্বকে কোনো কিছু লাগানোর আগে অবশ্যই তা পরিস্কার করে নিন।

২. হালকা ভেজা ত্বকে ব্যবহার করুন :

ভালোভাবে মুখ ধোয়ার পরে হালকা ভেজা ত্বকে ক্রিমটি ব্যবহার করুন। কেননা একেবারে শুষ্ক ত্বকের চেয়ে হালকা ভেজা ত্বকে ক্রিমটি বেশি কাজ করে। এ কারণে খানিকটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাবাপন্ন ত্বকেই ক্রিমটি ব্যবহার করুন।

৩. অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন :

আপনার ত্বকে ক্রিম সবসময় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন। অনেকে ত্বকে বেশি পরিমাণে ক্রিম ব্যহার করে থাকেন। তারা ভাবেন যে হয়ত বেশি পরিমাণে দিলে তা দ্রুত এবং ভালো কাজে দেবে। এই ধরনের চিন্তা একেবারেই ভুল। যে ক্রিম আপনার ত্বকের মসৃণতা আনে সেটি অল্পতেই আনতে পারে। এর জন্য বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে হয় না। এ কারণে অল্প পরিমাণে ক্রিম ব্যবহার করুন।

৪. হালকাভাবে ম্যাসেজ করুন :

ত্বক অনেক নরম একটি চামড়া দিয়ে গঠিত। তাই এতে সাবধানতার সাথে প্রসাধনী ব্যবহার করা দরকার। না হলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি ত্বকে ক্রিমটি খুব হালকাভাবে ম্যাসেজ করে ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের কোনো ক্ষতি করবে না বরং মসৃণতা ও লাবণ্যতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

মেঘ

শনিবার, ৭ জুন, ২০১৪

স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার প্রভাব থেকে ত্বক বাঁচাতে ধরণ বুঝে ফেইস মাস্ক

এই বৃষ্টি এই গরম, ভ্যাঁপসা একটা ভাব, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। এই সময়টাতে ত্বকের খুব বেশি অসুবিধা শুরু হয়। সব ধরণের ত্বকেরই নানা সমস্যা শুরু হয়। কী করা উচিৎ তা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। তার ওপর কিছুদিন পর থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে বর্ষাকাল। তখন তো আরও বেশি সমস্যা শুরু হবে।
সে কারণে আগে থেকেই ত্বককে তৈরি করে ফেলুন এই আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। নিজের ত্বকের ধরণ বুঝে ব্যবহার শুরু করুন ঘরে তৈরি একেবারে প্রাকৃতিক কিছু ফেইস মাস্ক। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই ফেইস মাস্কগুলো আপনার ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হলুদ ও বেসনের মাস্ক

এই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার সময়ে তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের উপদ্রব বেড়ে যায়। এর সাথে তেলতেলে ভাবের জন্য ত্বক কালোও হওয়া শুরু করে দেয়। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করুন এই ফেইস মাস্কটি।
উপকরণঃ ৪ টেবিল চামচ বেসন, অর্ধেক টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো/ বাটা, সামান্য দুধ ও দুধের সর।
পদ্ধতিঃ প্রথমে বেসন ও হলুদ গুঁড়ো বা বাটা নিয়ে একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এতে অল্প অল্প করে দুধ ঢালুন। পেস্টের মতো তৈরি হয়ে গেলে দুধ ঢালা বন্ধ করে এতে সামান্য দুধের সর বাটা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর ত্বকে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। ত্বকে মাস্কটি একেবারে শুকিয়ে যেতে দেবেন না। মুখ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন এই মাস্কটি লাগাবেন।

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের জন্য মধু ও লেবুর মাস্ক

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের সমস্যা হলো ত্বকের উপরিভাগ খুব অল্পতেই ফেটে যায়। এবং উপরের চামড়া ভালো করে স্ক্রাব না করলে কালচে ভাব দেখা যায়। চিন্তা নেই, সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করুন এই মাস্কটি।
উপকরণঃ ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ
পদ্ধতিঃ প্রথমে গুঁড়ো দুধ ও মধু একসাথে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নেবেন। এরপর এতে তাজা লেবুর রস দিয়ে মিশিয়ে নিন। এই মাস্কটি চোখের আশেপাশে ছাড়া পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। ১০-২৫ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে এর জুড়ি নেই।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য বেসন, লেবু ও হলুদের মাস্ক

স্বাভাবিক ত্বকে স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার প্রভাব খুব খারাপ ভাবে পরে থাকে। হয় ত্বক খুব তৈলাক্ত হওয়া শুরু করে অথবা একেবারে রুক্ষ হয়ে যেতে থাকে। ত্বকটাকে ঠিক রাখার জন্য ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহার করুন এই মাস্কটি।
উপকরণঃ ২ টেবিল চামচ বেসন, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও সামান্য গোলাপ জল।
পদ্ধতিঃ বেসন ও হলুদ গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে এতে অল্প করে গোলাপজল দিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিন। এরপর এতে দিন তাজা লেবুর রস। খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে লাগান মাস্কটি। ১৫ মিনিট রেখে মুখ খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে মুখ মুছে ফেলুন। ত্বকের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

মেঘ

শুক্রবার, ৬ জুন, ২০১৪

দাগ ঢাকতে কনসিলার



লিপস্টিক, আইশ্যাডো সব ঠিকঠাক ব্যবহার করলেন। এমনকি এর আগে ফাউন্ডেশন দিয়ে বেস মেকআপটাও করে নিয়েছেন। তবু মনে হচ্ছে কোথায় কিসের যেন কমতি। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে কনসিলার। চোখের নিচের কালো দাগ, ব্রণের দাগ বা বড় লোমকূপ ঢেকে দিতে ব্যবহার করতে পারেন কনসিলার। এটি ফাউন্ডেশনের মতোই, কিন্তু একটু ঘন এবং ভারী কভারেজের।

তৈলাক্ত ত্বকের সমাধান রান্নাঘরেই!

শরীরে ভিটামিন বি-২ এবং বি-৫-এর ঘাটতি থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা বেড়ে যেতে পারে। আর এই গরমের দিনে ভাজা-পোড়া বা হাবিজাবি ফাস্টফুড বেশি খেলে তার প্রভাব ত্বকের ওপর পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। এ ছাড়া এই মৌসুমে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম বেশি হয়। এ জন্য ত্বকের তেলগ্রন্থি থেকে নিঃসরণও বেশি হয়। এত সব সামলে তৈলাক্ত ত্বক ঠিকঠাক রাখা কী চাট্টিখানি কথা! বিষয়টা কিন্তু আসলে অতটা কঠিন নয়। 
আপনার রান্নাঘরের তাকে, রেফ্রিজারেটরে থাকা দৈনন্দিন খাবারদাবার আর ব্যবহার্য এটা-সেটা দিয়েই এই গরমের মৌসুমে ত্বক তেলমুক্ত, স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল রাখতে পারেন আপনি। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’।
দুধ-লেবুর রস
ঠান্ডা করে রাখা কাঁচা দুধের সঙ্গে অল্প পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে মুখ-হাত-পায়ে ভালো করে মাখুন। ১০ মিনিট রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর হবে এবং ত্বক কম তৈলাক্ত থাকবে।
মধু ও মুলতানি মাটি
মধু ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে একটা ‘ফেসপ্যাক’ বানিয়ে নিন। পুরো মুখে তা ভালো করে মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এটা মুখের ত্বকে জমা হওয়া অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে এবং ত্বক সজীব ও কোমল দেখাবে।
ঘৃতকুমারী
এই গরমে ত্বক পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে ভালো উপাদান হলো ঘৃতকুমারী। এটা ত্বকের তেল শুষে নেওয়ার পাশাপাশি মুখে-হাতে-পায়ে ফুসকুড়ি থাকলে তাও পরিষ্কার করে। ঘৃতকুমারীর আঠাল রসের সঙ্গে স্ট্রবেরির মণ্ড এবং জইদানার গুঁড়ো মিশিয়ে একটা ‘ফেসপ্যাক’ তৈরি করে ব্যবহার করুন। এই ফেসপ্যাক কয়েক দিন রেফ্রিজারেটরে রেখে দিয়েও ব্যবহার করতে পারবেন।
ডিমের সাদা অংশ
ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়া এবং ত্বককে টানটান রাখার জন্য খুবই উপকারী ডিমের সাদা অংশ। একটি বা দুটি ডিম ভেঙে কুসুমটা সরিয়ে নিয়ে সারা মুখে ডিমের সাদা অংশ ভালো করে মাখুন। সাত থেকে ১০ মিনিট রাখার পর ভালো করে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
টমেটো
টমেটোও ত্বক পরিষ্কারে দারুণ উপকারী। মাঝারি আকারের একটি বা দুটি টমেটোর মণ্ড বানিয়ে সারা মুখে ভালো করে মেখে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এবার ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

চন্দনের গুঁড়ো, লেবুর রস ও গোলাপজল
চন্দন-কাঠের ভেষজ গুণের কথা কে না জানে। চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে একটি লেবুর রস ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্টের মতো বানিয়ে নিন। আলতো করে হাত বুলিয়ে সারা গায়ে ভালো করে মাখুন। কিছুক্ষণ রেখে ভালোমতো গোসল করে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক যেমন পরিষ্কার হবে, তেমনি শরীরজুড়ে ত্বকের নিচে রক্তপ্রবাহও বাড়বে। ত্বকে আসবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এবং কোমল ভাব।


মেঘ


ঘরেই বানান খুশকি তাড়ানো শ্যাম্পু!

খুশকি দূর করতে বাজারে পাওয়া সব শ্যাম্পুই পরীক্ষা করে দেখেছেন...কিন্তু স্বস্তি পাচ্ছেন না কোনোটা ব্যবহারেই! এ নিয়ে অত চিন্তা না করে নিজের জন্য ঘরেই বানিয়ে নেন খুশকি-রোধক শ্যাম্পু! 

খুশকি-রোধক শ্যাম্পুর উপাদানবেকিং পাউডার: দুই টেবিল চামচ বা ৩০ মিলিলিটার
গরম পানি: এক কাপ
ভিনেগার: এক টেবিল চামচ বা ১৫ মিলিলিটার
পুদিনার রস: দুই টেবিল চামচ বা ৩০ মিলিলিটার

যেভাবে এই শ্যাম্পু বানাবেন
প্রয়োজনীয় সব উপাদান হাতের নাগালে রেখে প্রথমে তাজা পুদিনার পাতা ছেঁচে পরিমাণমতো রস বানিয়ে ফেলুন। এবার পরিষ্কার একটা পাত্রে বেকিং পাউডার এবং গরম পানি ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর মেশান ভিনেগার। পুদিনা পাতার রস ভালো করে ছেঁকে ঘন ভারী অংশটা পরিমাণমতো মিশিয়ে নিন। সবকিছু মেশানো হলে কিছুক্ষণ ভালো করে নাড়ুন। কিছুক্ষণ পর গোসলের সময় তা ব্যবহার করুন।
ঘরে বানানো এই খুশকি-রোধক শ্যাম্পু সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে টানা মাস খানেক ব্যবহার করে দেখুন। উপকার পেতে পারেন।

মেঘ

এ সময়ে ত্বকের যত্ন

রোদ কিংবা বৃষ্টি থেকে চেহারাকে বাঁচানোর জন্য ছাতা এখন অপরিহার্য৷ ভালো মানের সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে৷ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেল ছাড়া, শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমযুক্ত সানস্ক্রিন উপযোগী৷ তবে সেটা আপনার ত্বকের জন্য মানানসই কি না, যাচাই করে নিন৷ ত্বক সুস্থ রাখার জন্য পানির ভূমিকা অনেক৷ রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, পানি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে৷ শরীরের চাহিদা পূরণ করতে এই আবহাওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে৷ প্রতিদিন মুখে ৮ থেকে ১০ বার করে পানির ঝাপটা দিলে ত্বকের অনেক সমস্যা কমে যাবে৷
এই আবহাওয়ায় মুখের ত্বক নিয়ে কী কী ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়? এই প্রশ্নের ভেতর দিয়ে তৈলাক্ত, শুষ্ক, মিশ্র ও সাধারণ ত্বকের অধিকারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানা যায়৷ গরমে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের অধিকারীরা৷ একটু গরম কিংবা তাপে ত্বকের তেল বের হয়ে যায়৷ এর মধ্যে ধুলাবালু আটকে যাচ্ছে৷ ঘাম হচ্ছে বেশি৷ এ কারণে ব্রণের আগমনবার্তা পাওয়া যাচ্ছে কিছুদিন পরপরই৷ আফরোজা পারভীন এই সমস্যার সমাধান দিয়ে বলেন, যতটা সম্ভব ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে৷ দুই ঘণ্টা পরপর তেলবিহীন টোনার অথবা ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন৷ তেল তাহলে মুখের ওপর বেশি আসবে না৷ মুলতানি মাটি ও শসার রস মিশিয়ে ১০ মিনিট মুখে রাখলে এই তেলতেলে ভাব কমবে৷ তিন থেকে চার ঘণ্টা সজীব দেখাবে৷ এ সময়ের আরেকটি সমস্যা, রোদে পোড়ার কারণে ত্বক কিছুটা নির্জীব হয়ে পড়ে৷ তরমুজ অথবা শসার রস মাখলে এর সমাধান পাওয়া যাবে সহজেই৷ আরেকটি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন৷ কলা, পেঁপেসহ বেশ কিছু ধরনের ফল ব্লেন্ড করে নিন৷ এবার অল্প পরিমাণে টকদই ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন৷ মুলতানি মাটির বদলে নিতে পারেন বেসন অথবা চালের গুঁড়া৷
.এ তো গেল গরমের সময়টার কথা৷ এবার আসা যাক বৃষ্টির সময়ে কী করতে হবে৷ বৃষ্টির পানি মাথায় লাগলে যত দ্রুত সম্ভব শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগাতে হবে৷ বৃষ্টির এই সময় চুলের আরও ভালো যত্ন নিতে হবে৷ বৃষ্টির সময় আদ্র৴তা বা ঠান্ডা আবহাওয়া ত্বকের জন্য অনেক ভালো৷ কিন্তু বৃষ্টির আগে-পরে কখনো কখনো গুমোট গরম ভাব হয়৷ এই গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ত্বক কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যায়৷ ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিলেই হয়৷ লিপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন৷ শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা ফেসওয়াশ ব্যবহার না করে হালকা কোনো ক্রিম ভালোভাবে মুখে মালিশ করে মুখ ধুয়ে নিলেই হবে৷ শুষ্ক ভাব চলে যাবে৷ কোমলতা আসবে৷ বৃষ্টির পানিতে যেসব জায়গার ত্বক ভিজবে, সেখানে পরিষ্কার করে ফেলুন৷ ওয়াটার বেসড টোনার ব্যবহার করুন তৈলাক্ত ত্বকের জন্য৷ এ ছাড়া ডাবের পানি বরফ করে রাখতে পারেন৷ সেটা মুখে ব্যবহার করতে পারেন৷ এ ছাড়া ডাবের পানি দিয়েও মুখ ধুতে পারেন৷ ত্বকের দাগ চলে যাবে, উজ্জ্বলতা বাড়বে৷
গুমোট গরমে ঘামের প্রবণতা দেখা যায়৷ ঘাম থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় বলে জানান আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা৷ সমস্যা ও সমাধান দুটিই তুলে ধরলেন তিনি৷ ঘামের কারণে র্যাশ অথবা ফুসকুড়ি হয়৷ ব্রণ আছে যাঁদের, সেটা আরও বেড়ে যাচ্ছে৷ শসার রসের সঙ্গে মেথির গুঁড়া এখানে চমৎকার কাজ করবে৷ মেথি জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করবে এবং শসার রস ত্বককে ঠান্ডা রাখবে৷ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি খুব উপকারী৷ র্যাশের জন্য টকদই খুব ভালো৷ লাগিয়ে দেখতে পারেন৷ শুষ্ক ত্বকের সুস্থতার জন্য শসার রস, মেথির গুঁড়া ও টকদই যথেষ্ট৷ শুধু শসার রস তুলার সাহায্যে লাগালেও ব্যাকটেরিয়া থেকে ত্বককে বাঁচাতে পারবেন৷


মেঘ