বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০১৪

স্বাভাবিক ত্বক

ক. এ ধরনের ত্বকে সাধারণত সমস্যা অনেক কম। তাই অনেকে মনে করেন, এ ধরনের ত্বকের আর যত্নের দরকার কি? এমনিতেই ভালো আছে। কিন্তু একটা বয়সের পর ত্বক নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না। তাই এ জাতীয় ত্বকের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানেই যেমন ধোয়া-মোছা তেমনি ত্বকের পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও ধোয়া-মোছাই প্রথম। দিনে-রাতে মিলিয়ে কম করে ৫ বার মুখ স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধোবেন। এতে ধুলোবালি লোম কূপের গোড়ায় আটকে থাকতে পারবে না। ত্বক সজীব মনে হবে। সাবান অথবা বেসন ব্যবহার করে মুখমন্ডল পরিষ্কার করতে পারেন। তবে সাবান বেশি না দেয়াই ভালো। প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন: বুটের বেসন দিয়ে মুখমন্ডল পরিষ্কার করতে পারেন। সাবানে যাদের এলার্জি তারা অনায়াসেই বেসন ব্যবহার করতে পারেন।


খ. রাতে শোবার আগে হালকা কুসুম গরম পানি নিয়ে বেসন দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। পরে মুখ মুছে গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে মুখে মেখে নিতে পারেন। এতে মুখের ত্বক নরম থাকবে এবং খসখসে হবে না। এছাড়া আপনি কোন স্কিন টনিক বা ফ্রেশনারও লাগাতে পারেন।
গ. সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ২/৩ দিন ফেসপ্যাক লাগাবেন। ফেসপ্যাক লাগানোর ১৫/২০ মিনিট পরে মুখমন্ডল ভালো ভাবে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। এতে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

ঘ. বাইরে থেকে ঘরে ফিরে অবশ্যই মুখমন্ডল ভালো ভাবে ধোবেন যাতে মেক-আপ লেগে না থাকে। বাইরের ধুলোবালি লোমকূপের গোড়ায় যেন আটকে না থাকে। তাহলে ব্রণ হবার ভয় থাকে না।

ঙ. মাঝে মাঝে মুখে গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। এতে লোমকূপের গোড়া খুলে গিয়ে তেল-ময়লা জমতে পারবে না এবং ব্রণ হবার আশংকা কমে যাবে।
প্রতি রাতে অবশ্যই খুব ভালো ভাবে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করে ঘুমোবেন। অসুবিধা হলে নিয়মিত ক্রিম লাগাতে পারেন। যে ক্রিম আপনার ত্বকে স্যুট করবে সেটাই ব্যবহার করবেন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্যে কয়েকটি ফেসপ্যাক
এই ফেসপ্যাক থেকে যেকোনো একটি সপ্তাহে ২/৩ দিন ব্যবহার করতে পারেন।


১. কমলা লেবুর খোসা বাটা + অলিভ অয়েল + কাঁচা ডিমের কুসুম। এগুলো একত্রে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখমন্ডলে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলবেন।


২. কয়েকটি চিনা বাদাম ভিজিয়ে বেটে নিন + কয়েক ফোঁটা খাঁটি মধু একত্রে মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট রেখে প্রথমে হালকা গরম পানি ও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩. কমলা লেবুর খোসা বাটা + কয়েক ফোঁটা মধু একত্রে মিলিয়ে মুখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে প্রথমে হালকা গরম পানি ও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪. কাঁচা ডিমের কুসুম + ১ চামচ বেসন ও দুধের সর একত্রে পেস্টের মতো করে মুখে ১৫/২০ মিনিট রেখে প্রথমে কুসুম গরম পানি, পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫. কাঁচা ডিমের কুসুম + ১ চামচ অলিভ অয়েল একত্রে মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট রেখে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬. কাঁচা ডিমের কুসুম + অলিভ অয়েল ও মধু একত্রে মিশিয়ে মুখে মেখে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৭. ছোলার ডালের বেসন + মধু একত্রে মিশিয়ে মুখে ১৫/২০ মিনিট রেখে প্রথমে হালকা গরম পানি, পরে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এ পদ্ধতি মুখের রং উজ্জ্বল করে এবং ত্বক নরম রাখে।

৮. মশুরের ডাল বাটা বা ডালের বেসন + কাঁচা দুধ + কয়েক ফোঁটা লেবুর রস + কয়েক ফোঁটা মধু একত্রে পেস্টের মতো করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

মুখের পরিচর্যায় সবসময় মনে রাখবেন-
১. যে প্যাকটি আপনার ত্বকের সাথে সব চেয়ে মানিয়ে যাবে সেটি ব্যবহার করবেন।
২. প্রতিদিন ৭/৮ ঘণ্টা ঘুমোনো উচিত।
৩. তেল-মশলা, ভাজা-পোড়া খাবার কম খাবেন।
৪. সব্জি, কাঁচা ফলমূল ও সালাদ বেশি পরিমাণে খাবেন।
৫. পানি বেশি করে পান করবেন।
৬. ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি এবং ভিটামিন-ই যুক্ত খাবার প্রতিদিনই খাবেন। এতে ত্বক ভালো থাকবে।
৭. সপ্তাহে অন্তত দু-দিন প্যাক ব্যবহার করবেন।
৮. প্রতিদিন রাতে ঘুমোবার আগে মুখ হালকা কুসুম গরম পানি, প্রাকৃতিক উপাদান অথবা আপনার পছন্দের সাবান দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে নিন। পরে ময়েশ্চারাইজিং লোশন দিয়ে ৫ মিনিট হালকাভাবে মুখ ম্যাসাজ করুন।

মেঘ

যেভাবে চোখে আনবেন গ্লসি স্মোকি এবং ড্রামাটিক ব্লু স্মোকি লুক

গ্লসি স্মোকি আই

নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে সম্প্রতি নতুন নজরকাড়া স্টাইল- গ্লসি স্মোকি আই সবার নজর কেড়েছে। 
-গ্লসি স্মোকি আইয়ের জন্য একটি ক্রিমি ব্ল্যাক আই পেন্সিল নিন। পেন্সিলটি দিয়ে চোখের পাতার উপরের ও নিচের ল্যাশ লাইনে দাগ দিন। এরপর তা ভাজের সঙ্গে মিলিয়ে দিন।
-এরপর একটি সিলভার শ্যাডো ব্যবহার করে ভেতরের কোনাগুলো উজ্জ্বল করুন।
-চোখের পাতায় গ্লসি ভাব আনার জন্য আপনার অনামিকা আঙুলে ক্লিয়ার গ্লস নিয়ে সেখানে আলতো করে মাখিয়ে দিন। এরপর প্রয়োজনমতো মাসকারা লাগিয়ে দিন।


বুধবার, ৪ জুন, ২০১৪

বাড়িতেই চটজলদি তৈরি করে ফেলুন দারুণ কার্যকরী শ্যাম্পু

হঠাৎ করেই লক্ষ্য করলেন আপনার শ্যাম্পুর বোতলটি একেবারেই খালি, অথচ চুল পরিষ্কার করাটা খুবই জরুরি। অথবা কেনা শ্যাম্পু ব্যবহার করতে করতে আপনি ক্লান্ত, চুলকে এসব রাসায়নিকের পাল্লা থেকে একটু মুক্তি দিতে চান। কি করতে পারেন এমন অবস্থায়? নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন ঘরোয়া একটি শ্যাম্পু।
কী কী উপাদান ব্যবহার করতে পারেন বাড়িতে শ্যাম্পু তৈরি করার জন্য? মূলত দুইটি উপাদান খুব কাজে লাগে। একটি হলো ডিম, আরেকটি হলো বেকিং সোডা।
শুনতে অবাক লাগতে পারে, কিন্তু শ্যাম্পু তৈরির জন্য ডিম বেশ ভালো একটি উপাদান। ডিমে আছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যান্য পুষ্টি। ডিম ব্যবহারে চুল হয়ে ওঠে নরম, ঘন এবং ঝলমলে। তবে একটা জিনিস মনে রাখুন। রান্না করে ডিম খেতে যতই ভালো লাগুক না কেন, নিজের মাথায় রান্না করা ডিম মাখতে ভালো লাগবে না। তাই শ্যাম্পু হিসেবে ডিম ব্যবহারের সময়ে কখনই গরম পানি ব্যবহার করবেন না।
১) খুব সহজে শুধু ডিমকেই ব্যবহার করতে পারেন শ্যাম্পু হিসেবে। ২-৩টি ডিম একটি পাত্রে ফেটিয়ে নিন। এরপর আপনার সাধারণ শ্যাম্পু যেভাবে ব্যবহার করে থাকেন সেভাবেই একে মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। চুল থেকে ডিমের গন্ধ দূর করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার।
২) আরেকটি উপায় হলো মধুর সাথে ডিম ব্যবহার। তিনটা ডিমের কুসুম ভালো করে মিশিয়ে নিন তিন টেবিল চামচ মধুর সাথে। এরপর ভেজা চুলে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। এর পর চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। কন্ডিশনার ব্যবহার না করলেও চলবে।
৩) শুষ্ক চুলের জন্য ২-৩টি ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন কিছুটা পানিতে, এরপর এতে ৩-৪ ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি শ্যাম্পুর মতো ব্যবহারের পর ব্যবহার করুন কন্ডিশনার।
৪) সব চুলের জন্য ব্যবহার করা যাবে এমন একটি রেসিপি রইলো। দুইটি ডিমের সাথে মিশিয়ে নিন দুই টেবিল চামচ লেবুর রস, এক টেবিল চামচ মধু এবং ৩ ফোঁটা অলিভ অয়েল। এই শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল হয়ে উঠবে পরিষ্কার, ঝলমলে এবং সুস্থ।
শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহারের জন্য আরেকটি চমৎকার উপাদান হলো বেকিং সোডা। তবে এই শ্যাম্পু মোটেও প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। মাসে একবার বা দুবার ব্যবহার করতে পারেন। কারণ বেকিং সোডা চুল থেকে টেনে বের করে ফেলে সব তেল এবং ময়লা। খুব ঘন ঘন ব্যবহারে চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
১) খুব সহজে শ্যাম্পু হিসেবে বেকিং সোডা ব্যবহারের একটি উপায় হলো, এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে ৩টি ডিমের কুসুম মিশিয়ে নেওয়া। এই মিশ্রণ ব্যবহার করা যাবে সাধারণ শ্যাম্পুর মতোই। পরে ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার।
২) শুধু বেকিং সোডা এবং পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা দিয়েও চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন।

মেঘ

রাতের রূপচর্চায় অবশ্যই করণীয় ৫ টি কাজ

এই সময়ে দেহ ও ত্বকের দরকার বাড়তি কিছু যত্নের। কারণ আর কিছুই নয়, শুধুই আবহাওয়া। এই রোদ এই বৃষ্টির সময়ে সামান্যতেই ক্ষতি হওয়া শুরু করে ত্বকের। ত্বকে ব্রণের উপদ্রব, রুক্ষতা, খুব সহজে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, চুল পড়া শুরু হওয়া, রুলের রুক্ষতা বেড়ে যাওয়া, হাত পায়ের ত্বকে সমস্যা শুরু হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।
কিন্তু আমাদের বাড়তি যত্ন এবং সাবধানতা এইসকল সমস্যা থেকে আমাদের দেবে মুক্তি। দেহের ও ত্বকের বাড়তি যত্নের সব চাইতে উপযুক্ত সময় হচ্ছে রাতের বেলা। ঘুমুতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে। রাতের বেলায় এই বাড়তি যত্ন নিলে সারারাত তা আমাদের ত্বক ও দেহের অন্যান্য অংশের ক্ষতিটা নিরাময়ে কাজ করে। চলুন তবে আজকে দেখে নেয়া যাক রাতের রূপচর্চায় অবশ্যই করণীয় ৫ টি কাজ।

ত্বকের যত্নে মাত্র ১৫ মিনিটের মাস্ক

মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে একটি ফেইস মাস্ক তৈরি করে ত্বককে রাখুন সতেজ এই সময়েও। ১ চা চামচ গুঁড়ো দুধ কিংবা তরল দুধ নিয়ে এতে ১ চা চামচ মধু মেশান। এতে দিন ১ চা চামচ লেবুর রস। ভালো করে মিশিয়ে এই মাস্কটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর ভালো করে ধুয়ে মুছে নিন। ত্বকের কোমলতা সকালেই টের পাবেন।

ঠোঁট ফাটা রোধে মধু ও দুধ

অনেকেরই সকালে উঠে সহ্য করতে হয় ফাটা ঠোঁটের কষ্ট। এই সমস্যা সমাধান করতে চাইলে সামান্য মধু ও দুধ মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে এটি ঠোঁটে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। ঠোঁট ফাটা রোধ করার পাশাপাশি ঠোঁটের কোমলতা ও গোলাপি আভা বজায় থাকবে।

রুক্ষ চুল থেকে বাঁচতে তেল

চুলের রুক্ষতা চিরতরে দূর করতে তেলের তুলনা নেই। আর তেল যদি সারারাত চুলে রাখা যায় তবে আপনি সব সময়েই স্বাস্থ্যউজ্জ্বল চুলের অধিকারী হতে পারবেন। সব চাইতে ভালো হয় যদি আপনি ২/৩ টি তেল একসাথে মিশিয়ে রাতের বেলা চুলে লাগাতে পারেন। সকালে উঠে চুল শ্যাম্পু করে ফেলবেন। সপ্তাহে মাত্র ২ দিন ব্যস চুলের রুক্ষতা, মাথার ত্বকের সমস্যা এবং চুল পড়া একেবারে বন্ধ হবে।

হাত পায়ের ত্বকের জন্য ময়েসচারাইজার

সকালে উঠে অনেকেরই অভিযোগ থাকে হাত পায়ের রুক্ষ ত্বক নিয়ে। এর জন্য রাতের বেলা ত্বকের যত্ন নেয়া অনেক বেশি জরুরী। প্রতিদিন রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে অবশ্যই হাত পায়ের ত্বকে ময়েসচারাইজার লাগানো উচিৎ। চাইলে অলিভ অয়েল ম্যাসেজ করতে পারেন। কারণ অলিভ অয়েল প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার।

চোখের নিচের ফোলা ভাব, দাগ ও রিংকেলের সমস্যা দূর করতে আই ক্রিম

সকালে উঠে অনেকেই চোখের নিচেটা ফোলা দেখতে পান, কিংবা কালো সার্কেল অথবা কুঁচকে থাকতে দেখেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য রয়েছে আই ক্রিম। যদি আই ক্রিম না পান তবে ১ চা চাচমচ দুধ, ১ চা চামচ নারকেল তেল ও ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল ভেঙে নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর পূর্বে চোখের চারপাশে লাগিয়ে ঘুমাবেন।
মেঘ

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল

ফেসিয়াল শব্দটা শুনে মনে হয় কিছু একটা ঘটতে চলেছে চারপাশে, এমনটি ভাববার কোন কারণ নেই। ত্বকে চমক আনতে ক্লেনজিং, টোনিং এবং ময়শ্চারাইজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। এক কথায়, এই তিন স্টেপেই ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার হয়। আর এই মুখ পরিষ্কার করার পোশাকি নামই হল ফেসিয়াল। নিজের স্কিন টাইপ জেনে সেই মতো পরিষ্কার করলেই হয়ে যাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল।


ক্লেনজিং
নরমাল স্কিন হলে কটন বল ঠাণ্ডা দুধে চুবিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তারপর আরও একবার পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। ড্রাই স্কিন হলে শসার রস ও ঠাণ্ডা দুধের মিশ্রণ কটন বলে ডুবিয়ে পরিষ্কার করে নিন। অয়েলি স্কিনে বেশি ময়লা জমে বলে ঠাণ্ডা দুধের সঙ্গে পুদিনাপাতার রস মিশিয়ে নিন।
এরপর কটন বল দিয়ে, সেই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালো করে ক্লেনজিং করুন। কম্বিনেশন স্কিনের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা দুধে কটন বল ভিজিয়ে পরিষ্কার করলেই উপকার পাবেন।
স্ক্রাবিং  
নরমাল স্কিন হলে কমলালেবুর খোসা ও চালের গুঁড়ার পেস্ট অথবা বার্লি ও ঠাণ্ডা দুধের মিশ্রণ ব্যবহার স্ক্রাবার হিসেবে করতে পারেন। ড্রাই স্কিনের ক্ষেত্রে চালের গুঁড়া ও দুধের সরের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে নিন।
অয়েলি স্কিনে মসুর ডালবাটা ও কমলালেবুর খোসা দিয়ে স্ক্রাব করা যায়। কম্বিনেশন স্কিনের ক্ষেত্রে কর্নফ্লাওয়ার ও এক চিমটে কর্পূর কুসুম গরম পানিতে মিশ্রণ করে স্ক্রাবিং করুন। মনে রাখতে হবে, স্ক্রাবিংয়ের সময় হালকা প্রেসার দিয়ে সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করতে হবে।
টোনিং 
নরমাল ও ড্রাই স্কিনের জন্য শুধু গোলাপজল দিয়ে টোনিং করলেই হবে। অয়েলি স্কিনে পুদিনা পাতা, শসা ও লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে মাখতে পারেন। কম্বিনেশন স্কিনের জন্য টমেটো রস, শসার পেস্ট ও গোলাপজলের মিশ্রণ ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে।
ময়শ্চারাইজিং  
নরমাল ও কম্বিনেশন স্কিনে অ্যালোভেরা জেল ও সামান্য মধু মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে। অয়েলি স্কিনে আপেল কুচিয়ে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে লাগিয়ে পরে ধুয়ে নিন। ড্রাই স্কিনে মধুর সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে লাগালে বেশ উপকার পাবেন।
নরমাল স্কিনের ফেসপ্যাক 
দুই চামচ বেসন, দুই চামচ মধু, কচি গাজর পেস্ট ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানির ঝাঁপটা দিয়ে ধুয়ে নিন।

টিপস

রান্নাঘরের একটি অতি প্রয়োজনীয় অংশ হলো বাসনকোসন ধোয়ার জায়গা। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় এটা-সেটা জমে সিঙ্ক অথবা বেসিনের পাইপ জ্যাম হয়ে যায়। ফলে পানি চলে না গিয়ে জমে থাকে। খুব সহজেই আপনি এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কীভাবে? জেনে নিন।
সিঙ্ক অথবা বেসিনের পাইপ জ্যাম হয়ে গেলে পাইপের ভেতরে বেশি কিছুটা কাপড় কাচার সোডা দিন। এরপর এতে আধা গ্লাস ভিনেগার ঢেলে দিন। সারা রাত এভাবেই থাকতে দিন। সকালে ঢেলে দিন ফুটন্ত গরম পানি। দেখবেন পাইপ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

ব্রণের বিশ্রী দাগ থেকে মুক্তি পান খুব সহজ প্রাকৃতিক উপায়ে

ব্রণের সমস্যা হয়নি এমন মানুষ অনেক কম খুঁজে পাওয়া যাবে। নারী এবং পুরুষ উভয়েই ব্রণের সমস্যায় পরে থাকেন। হরমোনের সমস্যা, বিরূপ আবহাওয়া, ধুলোবালি, রোদ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদির কারণে ব্রণের সমস্যা শুরু হয়। সমস্যা হলো ব্রণের হাত থেকে মুক্তি পেলেও ত্বকে রয়ে যায় ব্রণের বিশ্রী দাগ। এই দাগ খুবই অস্বস্তিকর।
ব্রণের বিশ্রী দাগ মুখের সৌন্দর্যটাই নষ্ট করে দেয়। অনেক নামি দামী প্রোডাক্টও ব্রণের এই দাগ সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয় না। কিন্তু আপনি জানেন কি, আপনার হাতের কাছেই রয়েছে এর সমাধান? প্রাকৃতিক উপায়ে খুব সহজে ব্রণের এই অস্বস্তিকর বিশ্রী দাগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। চলুন তবে আজকে দেখে নেয়া যাক ব্রণের বিশ্রী দাগ থেকে মুক্তির খুব সহজ প্রাকৃতিক উপায়গুলো।

মধু

মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান, যা ভেতর থেকে এই সমস্যার সমাধান করে। মধু হাতের তালুতে নিয়ে মুখে প্রতিদিন ম্যাসেজ করলে এবং প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ মধু খেলে খুব দ্রুত ব্রণ ও ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়া মধুর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে ব্রণের দাগ ত্বক থেকে দূর করতে বিশেষ কার্যকর।

গোলাপজল ও চন্দনগুঁড়ো

১ টেবিল চামচ চন্দনগুঁড়োয় সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুন। এটি ব্রণের দাগের ওপর লাগিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ব্যবহারে ব্রণের দাগ দূর হবে দ্রুত।

লেবুর রস

লেবুর রসের অ্যাসিটিক এসিড ত্বকের ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম। এছাড়া লেবুর রস ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করে ব্রণের উপদ্রব থেকে বাঁচায়। প্রতিদিন লেবুর রসের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে তুলোর বল ভিজিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২ ঘণ্টা। ব্রণ ও ব্রণের দাগ থেকে রেহাই পাবেন।

অলিভ অয়েল

ব্রণের দাগ দূর করতে অলিভ অয়েল জাদুর মতো কাজ করে। প্রথমে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে শুকিয়ে নিন। এরপর হাতে সামান্য অলিভ অয়েল নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন ১০ মিনিট। এপর ৩০ মিনিট পর আবার কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ব্যবহারে দ্রুত ফল পাবেন।

পুদিনা পাতা

এবশ কয়েকটি পুদিনা পাতা পিষে নিয়ে রস বের করে নিন। একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে রস টুকু আলাদা করুন। এই রস প্রতিদিন ত্বকে লাগিয়ে রাখবেন ৩০ মিনিট। এতে দ্রুত ব্রণের দাগ মিলিয়ে যাবে।

আলু

কাঁচা আলু ত্বকের দাগ দূর করতে বেশ কার্যকরী। আলু ধুয়ে মুছে নিয়ে পাতলা করে স্লাইস করে ত্বকে ভালো করে ঘষে নিন। এতে করে ত্বকের দাগ হালকা হয়ে আসবে। এবং ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবে।

হলুদ ও পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতার রসের সাথে সামান্য হলুদ মিশিয়ে নিন। ত্বকের ওপর লাগান, বিশেষ করে ব্রণের দাগের ওপর। ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। খুব দ্রুত ব্রণের দাগ দূর করতে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন।

মেঘ